তালেবান বিরোধী অন্যতম শীর্ষ নেতা কে এই আহমদ মাসুদ?

১৯৮০- এর দশকে সোভিয়েত ইউনিয়ন বিরোধী যুদ্ধে আফগানিস্তানের অন্যতম নেতা ছিলেন আহমদ শাহ মাসুদ। আহমেদ শাহ মাসুদের ছয় সন্তানের মধ্যে সব থেকে বড় এই আহমদ মাসুদই, যিনি তালেবান বিরোধী অন্যতম শীর্ষ নেতা বলে পরিচিত। ব্রিটেনে উচ্চশিক্ষা লাভ করেছেন। তিনি আফগানিস্তানে তালেবানবিরোধী রাজনৈতিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ব্যাপারে সশস্ত্র বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাঁর চাচা আহমদ জিয়া মাসুদ ২০০৪ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত আফগানিস্তানের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন।

আহমদ মাসুদ ১৯৮৯ সালের ১০ জুলাই উত্তর-পূর্ব আফগানিস্তানে তাজিক জাতিগত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ।

ইরানে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা শেষ করার পর মাসুদ যুক্তরাজ্যের রয়্যাল মিলিটারি একাডেমিতে এক বছরের সামরিক কোর্স করেছিলেন। ২০১২ সালে, তিনি কিংস কলেজ লন্ডনে ওয়ার স্টাডিজ -এ স্নাতক ডিগ্রি শুরু করেন এবং যেখানে তিনি ২০১৫ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০১৬ সালে সিটি ইউনিভার্সিটি থেকে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে স্নাকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

মাসুদ এ সপ্তাহের শুরুতে কাবুলের উত্তর-পূর্বে পাঞ্জশির উপত্যকায় তার প্রতিরোধ আন্দোলনে অস্ত্র সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আবেদন জানিয়ে বলেছিলেন যে, তিনি তার পিতা আহমদ শাহ মাসুদের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে চান। তার এ আহ্বানে আফগানিস্তানে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। ডেইলি মিরর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

রবিবার (২২ আগস্ট) তিনি বলেছেন, তার নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলো কোনোভাবেই তালেবানের কাছে হস্তান্তর করবেন না।

দুবাই ভিত্তিক আল- আরাবিয়া টিভি চ্যানেলের বরাত দিয়ে খবর প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। সেখানে বলা হয়, আহমদ মাসুদ তালেবানের অংশগ্রহণে দেশ শাসনের জন্য একটি বহুদলীয় সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, বিদ্রোহীরা সংলাপ প্রত্যাখ্যান করলে যুদ্ধ ‘অনিবার্য’ হবে।
এদিকে মাসুদ তালেবানের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করেছেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় থাকা খলিল হাক্কানি। যদিও হাক্কানির ঘোষণার ব্যাপারে মাসুদ কোন বিবৃতি দেননি, কিন্তু তার সহযোগীরা বলেছেন যে, তালেবানদের সাথে আলোচনা এখনও চলছে।

কে তাঁর বাবা?
আহমদ শাহ মাসউদ হলেন একজন আফগান রাজনীতিবিদ ও সামরিক ব্যক্তিত্ব, যিনি ১৯৭৯ থেকে ১৯৮৯ সালের সোভিয়েত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এবং একই সময়ের গৃহযুদ্ধের বছরগুলোতে একজন শক্তিশালী সামরিক কমান্ডার দায়িত্বপালন করেন।

মাসউদ উত্তর আফগানিস্তানের পাঞ্জশির প্রদেশের তাজিক থেকে এক সুন্নি মুসলিম পরিবার থেকে আসেন। তিনি ১৯৭০ এর দশকে কাবুল পলিটেকনিক ইউনিভিার্সিটি থেকে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশুনা করেন, তখন তিনি কমিউনিস্ট বিরোধী মুসলিম আন্দোলনের ইসলামপন্থি আফগান নেতা বোরহানউদ্দিন রব্বানীর সান্নিধ্যে আসেন। তিনি মোহাম্মদ দাউদ খান সরকারের বিরুদ্ধে পাকিস্তান সমর্থিত ব্যর্থ বিদ্রোহে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১৯৭৯ সালে সোভিয়েত দখদারিত্বের বিরুদ্ধে তার ভুমিকার জন্য তার অণুসারীরা তাকে “পাঞ্জশিরের সিংহ” নামে ডাকা শুরু করে। ১৯৯২ সালের পর রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ নাজিবুল্লাহ সরকারকে প্রতিস্থাপনের জাতিসংঘ পরিকল্পনায় তিনি উদ্বিগ্ন ছিলেন।ফলে তাকে পেশোওয়ারের একোর্ডের মাধ্যমে তাকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী নিযুক্ত করা হয়, যা ছিল কমিউন্সিট পরবর্তী ইসলামিক আফগানিস্তানে শক্তি ও শান্তির সমঝোতা চুক্তি।

২০০১ সালের ৯ই সেপ্টেম্বর (টুইন টাওয়ারে হামলার মাত্র দুই দিন আগে) উত্তর আফগানিস্তানর তাখার প্রদেশে খাজা বাহাউদ্দিন এলাকায় আত্মঘাতি হামলায় আহমদ শাহ মাসউদ নিহত হন। এ হামলার জন্যে আল-কায়েদাকে অভিযুক্ত করা হয়। কারণ ওসামা বিন লাদেনের সঙ্গে তার বিরোধ ছিলো। এর আগে বহুবার কেজিবি, আইএসআই আফগান কমিউনিস্ট কেএইচএডি, তালেবান ও আল-কায়েদা তাকে হত্যা করার চেষ্টা করে । কিন্তু তাদের সেসব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। তার জন্মস্থান বাজারাকেই তাকে দাফন করা হয়। তিনিই একমাত্র আফগান নেতা যিনি কখনো আফগানিস্তানের বাইরে থাকেন নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *