অর্থপাচার ও অজ্ঞাত সম্পদের মালিক কি মাহি দম্পতি?

সংসদ সদস্য ও বিকল্প ধারা বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাহি বি চৌধুরী এবং তার স্ত্রী আশফা হক লোপার সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে এই হিসেব চাওয়া হয়।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, মাহীর গুলশানের বারিধারার বাড়ির ঠিকানায় বৃহস্পতিবার একটি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিসে তাদের সম্পদ বিবরণী দুদকের প্রধান কার্যালয়ে জমা দিতে বলা হয়েছে।

নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের নিজের ও তাদের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের নামে/বেনামে থাকা যাবতীয় স্থাবর/অস্থাবর সম্পত্তি, দায়-দেনা, আয়ের উৎস ও তা অর্জনের বিস্তারিত বিবরণী ২১ কার্যদিবসের মধ্যে নির্ধারিত ছকে দাখিল করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল করতে ব্যর্থ হলে অথবা মিথ্যা বিবরণী দাখিল করলে দুদক আইনের ২৬ (২) উপধারায় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জানা যায়, বিদেশে অর্থ পাচার এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মুন্সিগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাহী বি চৌধুরী এবং তার স্ত্রী আশফাহ হক লোপার বিরুদ্ধে দুদকের উপ-পরিচালক জালাল উদ্দিন আহম্মদ অনুসন্ধান করছেন। প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে এই দম্পতিকে তাদের সম্পদের হিসাব জমা দিতে বলা হয়েছে। এর আগে গত বছরের ২৫ অগাস্ট মাহী বি চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন অনুসন্ধান কর্মকর্তা জালাল।

এর আগে ২০১৯ সালের ২৫ আগস্ট দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে মাহি বি চৌধুরী দাবি করেন, জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের সুযোগ নেই। মানি লন্ডারিংয়েরও সুযোগ নেই। বাংলাদেশের বাইরে যদি কোনো আয়-ব্যয় থাকে তা বৈধ আয় থেকেই হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে অর্থপাচার ও জ্ঞাত আয় বহিভূর্ত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মাহী বি চৌধুরী আরও বলেছিলেন, একটি অভিযোগ এসেছে আমার নামে, সেই অভিযোগের প্রাথমিক তদন্ত করছে দুদক। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করার জন্য আমার বক্তব্য নেয়া প্রয়োজন ছিল। দুদক আমাকে তলব করেছে বলেই আমি অভিযুক্ত বা দোষী তা না। অনেক সময় আমাদেরকে ধৈর্য ধারণ করতে হয় রাজনীতির কারণে। ধৈর্য ধারণ করলে সত্য উদঘাটিত হবে, তা আমি বিশ্বাস করি।

একই অভিযোগে তলব করা হলেও হাজির হননি মাহি বি চৌধুরীর স্ত্রী আশফা হক।

প্রসঙ্গত, মাহি বি চৌধুরী ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে অর্থ পাচারের মাধ্যমে জ্ঞাত আয় বহিভূর্ত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। যে বিষয়ে ২০১৯ সালের জুন মাসে তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *