কাবুল বিমানবন্দর হামলার দায় স্বীকার: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৭০

কাবুল বিমানবন্দরের বাইরে ‘আত্মঘাতী’ হামলায় শিশু ও বিদেশি নাগরিকসহ কমপক্ষে বিস্ফোরণে ১২ মার্কিন সেনাসহ নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৭০। আহত হয়েছেন ১৪০ জনের বেশি। মার্কিন গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, হামলায় ১১ মেরিন সেনা ও নৌবাহিনীর একজন চিকিৎসক নিহত হয়েছেন ও ১৫ জন আহত হয়েছেন।

এই বিস্ফোরণে তালেবানের কয়েকজন নিরাপত্তা রক্ষী আহত হয়েছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। তালেবান, ন্যাটো ও জাতিসংঘ আজ এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে। 

কারা দায়ীঃ

ইসলামিক স্টেট বা আইএস সমর্থিত আইএসআইএল ( ISIS ) কাবুল বিমানবন্দরের বাইরে হামলার দায় স্বীকার করেছে আজ। তারা দায়েস নামেও পরিচিত। এ গ্রুপের আমাক নিউজ এজেন্সি তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে জানিয়েছে। পাশাপাশি তারা ওই আত্মঘাতীর ছবিও প্রকাশ করে।

বিবৃতিতে আইএস বলেছে, তাদের একজন আত্মঘাতী হামলকারী মার্কিন অনুবাদক ও সহযোগীদের ভীড়ের মধ্যে যেতে সক্ষম হয়। কাবুল বিমানবন্দরের ব্যারক ক্যাম্পের পাশে গিয়ে সে তার আত্মঘাতী হামলাটি চালায়। 

এর আগে এই ঘটনার জন্য মার্কিন কর্তৃপক্ষও আইএসকে দায়ী করেছে। 

আফগানিস্তানে ইসলামিক স্টেট গোষ্ঠী যে নাম ব্যবহার করে তা হলো ইসলামিক স্টেট অফ খোরাসান প্রভিন্স। ইংরেজিতে তাদের সংক্ষেপে আইএসকেপি ( ISKP ) (ISIS-K) বলা হয়। এখানে খোরাসান শব্দটি এসেছে আধুনিক আফগানিস্তান ও পাকিস্তান নিয়ে যে অঞ্চল তার প্রাচীন নাম থেকে।

প্রেসিডেন্ট বাইডেন গত ২৪ অগাস্ট সরাসরিভাবে বলেন যে আইএসকেপি কাবুল বিমানবন্দরে হানা দিতে পারে।

আইএসকেপি গোষ্ঠীর জন্ম ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে। মূলত পাকিস্তানি তালেবান এবং আফগান তালেবানের সাবেক সদস্যদের নিয়ে এই গোষ্ঠী তৈরি হয়।

আফগানিস্তানের তালেবানের চেয়ে আইএসকেপি বহুগুণ বেশি কট্টরপন্থী। তারা আফগান তালেবানকে শত্রু বলে মনে করে। ইসলামী বিধানের তাদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী মনে করে যে ‘মুরতাদ’ হিসেবে তালেবানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো ‘জায়েজ’ (বৈধ/আইনসিদ্ধ)।

গত বছর ২৯শে ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র এবং আফগানিস্তানের তালেবানের মধ্যে যে শান্তি চুক্তি হয় আইএসকেপি তার নিন্দা জানায় এবং বলে যে তারা আফগানিস্তানে তাদের লড়াই অব্যাহত রাখবে।

এই গোষ্ঠী একই সঙ্গে তালেবানের আফগানিস্তান দখলকে নাকচ করে দিয়ে দাবি করে যে এক গোপন চুক্তির অংশ হিসেবে আমেরিকানরা আফগানিস্তানকে তালেবানের হাতে তুলে দিয়েছে।

তালেবানের প্রতিক্রিয়াঃ

এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ১৩ থেকে ২০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৫২ জন। তালেবান সংস্কৃতি কমিশনের সদস্য আবদুল কাহার বলখি এক তুর্কি টেলিভিশনকে বলেন, ‘এটা সন্ত্রাসবাদী হামলা। বিদেশি সেনা উপস্থিতির কারণে এই হামলা হয়েছে। আমরা আর এমন হামলা চাই না। ’

তালেবানের আরেক মুখপাত্র সুহাইল শাহিন টুইটারে এক বিবৃতিতে বলেন, হামলার ঘটনা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং জনগণের নিরাপত্তার বিষয়ে মনোযোগ দিচ্ছে তালেবান।

তারা আরো বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা স্থানে বিদেশি সেনাদের উপস্থিতিতে এই হামলা চালানো হয়েছে। বিশ্ব সম্প্রদায়েরও উচিত বেসামরিক আফগানদের লক্ষ্য করে এই হামলার নিন্দা জানানো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *