কাবুল বিমানবন্দরে হামলাকারী কারা এ আইএসকেপি

আজ বৃহস্পতিবার আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাইরে জোড়া বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করেছে আন্তর্জাতিক জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)।

এ হামলার কয়েকদিন আগ থেকেই এ গোষ্ঠীটির নাম রাজনীতিক এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মুখে মুখে ফিরছে সেটি হলো তথাকথিত ইসলামিক স্টেট অফ খোরাসান প্রভিন্স (আইএসকেপি)।

এরা ইসলামিক স্টেট আইএস  গোষ্ঠী সমর্থিত যাদের জন্ম ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে ইরাক ও সিরিয়ায়।

কারা এ আইএসকেপিঃ 

আফগানিস্তানে ইসলামিক স্টেট গোষ্ঠী যে নাম ব্যবহার করে তা হলো ইসলামিক স্টেট অফ খোরাসান প্রভিন্স।

এখানে খোরাসান শব্দটি এসেছে আধুনিক আফগানিস্তান ও পাকিস্তান নিয়ে যে অঞ্চল তার প্রাচীন নাম থেকে।

প্রেসিডেন্ট বাইডেন গত ২৪ অগাস্ট সরাসরিভাবে বলেন যে আইএসকেপি কাবুল বিমানবন্দরে হানা দিতে পারে।

মূলত পাকিস্তানি তালেবান এবং আফগান তালেবানের সাবেক সদস্যদের নিয়ে এই গোষ্ঠী তৈরি, যারা তালেবানকে কট্টর নয় মনে করে সমর্থন করে না।

আফগানিস্তানের তালেবানের চেয়ে আইএসকেপি বহুগুণ বেশি কট্টরপন্থী। তারা আফগান তালেবানকে শত্রু বলে মনে করে। ইসলামী বিধানের তাদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী মনে করে যে ‘মুরতাদ’ হিসেবে তালেবানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো ‘জায়েজ’ (বৈধ/আইনসিদ্ধ)।

গত বছর ২৯শে ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র এবং আফগানিস্তানের তালেবানের মধ্যে যে শান্তি চুক্তি হয় আইএসকেপি তার নিন্দা জানায় এবং বলে যে তারা আফগানিস্তানে তাদের লড়াই অব্যাহত রাখবে।

এই গোষ্ঠী একই সঙ্গে তালেবানের আফগানিস্তান দখলকে নাকচ করে দিয়ে দাবি করে যে এক গোপন চুক্তির অংশ হিসেবে আমেরিকানরা আফগানিস্তানকে তালেবানের হাতে তুলে দিয়েছে।

কোথায় তাদের অবস্থানঃ

আইসিস-কে পূর্বাঞ্চলীয় নানগারহার প্রদেশে অবস্থিত, পাকিস্তানে যে সীমান্ত দিয়ে মাদক- এবং মানুষ-পাচার হয়ে থাকে তার কাছাকাছি।

তাদের সদস্য সংখ্যা ছিল প্রায় তিন হাজার – কিন্তু মার্কিন ও আফগান নিরাপত্তা বাহিনী এবং তালেবানদের সাথে সংঘর্ষে উল্লেখযোগ্য হতাহতের শিকার হয়েছে। এখন মনে করা হয় সদস্য সংখ্যা প্রায় দুই হাজার খানেক।

কেমন কট্টর এরাঃ

আইএসকেপি মেয়েদের স্কুল, হাসপাতালেও হামলা করে গর্ভবতী মহিলা ও নার্সদের হত্যা করেছে। এছাড়া তাদের টার্গেট হচ্ছে  আফগান সামরিক বাহিনী, আফগান রাজনীতিক, তালেবান, শিয়া মুসলমান ও শিখসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সংখ্যালঘু, মার্কিন ও নেটো বাহিনী, এবং সে দেশে কর্মরত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান, এনজিও আর ত্রাণ সংস্থা।

কেমন শক্তিশালী আইএসকেপিঃ

দু’হাজার উনিশ সালে আইএসকেপি সামরিকভাবে বড় ধরনের পরাজয়ের মুখোমুখি হয় এবং ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে তাদের বেশ কয়েকজন নেতাকে আটক করা হয়।

তবে এরপরও আইএসকেপি তার শক্তি ফিরে পায় এবং কাতারে তালেবানের সাথে শান্তি আলোচনা চলার সময়টিতে আফগানিস্তানে বেশ কয়েকটি হামলার দায়িত্ব স্বীকার করে।

বিবিসির নিরাপত্তা বিশ্লেষক ফ্র্যাংক গার্ডনার জানাচ্ছেন, শুধু গত বছরই আইএসকেপি আফগানিস্তানে ২৪টি হামলা পরিচালনা করেছে।

তারা ২০১৮ সালে ইরানের মধ্যেও একটি হামলা চালায়।

সাংগঠনিক দিক থেকে আইএসকেপি শুরুতে আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানকে নিয়ে গঠিত হলেও ২০১৯ সালের মে মাসে ইসলামিক স্টেট ‘পাকিস্তান প্রদেশ’ নামে স্বতন্ত্র একটি গোষ্ঠীর নাম ঘোষণা করে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *