বিশ্বব্যাপী জাতীয় কবি নজরুল : রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে মূলধারা

২৫ মে ২০২১ মঙ্গলবার ছিলো বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২২তম জন্মবার্ষিকী।  নজরুল জয়ন্তী উপলক্ষ্যে ঐ দিন বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ছটায় অনলাইন চ্যানেল ‘দ্য গ্লোবাল টিভি’তে লেখক-সাংবাদিক-শিল্পীদের আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান মূলধারা আয়োজন করে গান-কবিতা ও আলোচনার এক বিশেষ অনুষ্ঠান ‘এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণতূর্য। ( অনুষ্ঠানের ভিডিও নীচে যুক্ত )

মূলধারার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি প্রখ্যাত কবি, শিশুসাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক-ব্যক্তিত্ব সৈয়দ আল ফারুকের সভাপতিত্বে ও পরিচালনায় গান-কবিতা পরিবেশনা, বিদ্রোহী কবিতার ১০০ বছর এবং বিশ্বব্যাপী নজরুল বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেন কবি-নাতনি বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী ও নজরুল-গবেষক খিলখিল কাজী, আন্তর্জাতিক সঙ্গীতশিল্পী ও প্রামাণ্য চলচ্চিত্র-নির্মাতা নাহিদ নাজিয়া, তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের মান্যবর রাষ্ট্রদূত বিশিষ্ট লেখক-সম্পাদক মসয়ূদ মান্নান, পাকিস্তানে নিযুক্ত
বাংলাদেশের মান্যবর হাইকমিশনার সংস্কৃতি-বান্ধব দূত রুহুল আলম সিদ্দিকী, বেলজিয়াম ও লুক্সেমবার্গে নিযুক্ত বাংলাদেশের মান্যবর রাষ্ট্রদূত, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে বাংলাদেশের হেড অব মিশন বিশিষ্ট কবি মাহবুব হাসান সালেহ্, ভারতের কলকাতায় বাংলাদেশ উপ হাইকমিশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রথম সচিব (প্রেস) লেখক ড. মো: মোফাকখারুল ইকবাল। অনুষ্ঠানে সম্মানিত আলোচকবৃন্দ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে বিশ্বব্যাপী আরো ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেয়ার ব্যাপারে গুরুত্ব আরোপ করেন।

মূলধারার সভাপতি কবি সৈয়দ আল ফারুক পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে একদিন নজরুল দিবস পালন করে সেখানে বিভিন্ন ভাষাভাষী লেখক-সাংবাদিক-শিল্পী-বুদ্ধিজীবীদের আমন্ত্রণ জানিয়ে নজরুলের সৃষ্টিকর্ম তাদের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানান। নজরুলের সাহিত্যকর্ম অনুবাদের বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেন। বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গসহ পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে নজরুলের স্মৃতিবিজডিত জায়গাসমূহ চিহ্নিত ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান। এ-বছর ‘বিদ্রোহী’
কবিতার ১০০ বছর, কলকাতার যে বাড়িতে বসে তিনি এ-কবিতাটি লিখেছেন, সে বাড়িটি সংরক্ষণের জন্যে তিনি কলকাতায় বাংলাদেশ দূতাবাসকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

কবি-নাতনি শিল্পী খিলখিল কাজী জাতীয় কবি নজরুল ইসলামকে জাতীয় কবি ঘোষণার বিষয়টি গেজেট নোটিফিকেশন করার ব্যাপারে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। নজরুল রচনাসমগ্র বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদের ব্যাপারে তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি দূতাবাসগুলোর মাধ্যমে নজরুলকে বিশ্বমানবের সামনে তুলে আনার মূলধারার প্রস্তাবের প্রতি অকুন্ঠ সমর্থন জানান। শিল্পী নাহিদ নাজিয়া নজরুল-সঙ্গীতের শুদ্ধ-সুর সংরক্ষণের জন্যে স্বরলিপি তৈরির কর্মশালায় শিল্পী সুধীন দাশের সঙ্গে নজরুল ইন্সটিটিউটে তার কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে, মাঝে এবং শেষে তিনি তিনটি নজরুল-সঙ্গীত পরিবেশন করে দর্শক-শ্রোতাদের প্রশংসা কুড়ান।

মূলধারার আহ্বানে সাড়া দিয়ে হাই কমিশনার রুহুল আলম সিদ্দিকী করাচীতে ঝিমিয়ে-পড়া নজরুল একাডেমি নতুন উদ্যোমে কাজ করার ব্যাপারে যথাযথ ভূমিকা রাখবেন বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। পাকিস্তানের বিভিন্ন ভাষায় নজরুলকে অনুবাদ করে ছড়িয়ে দেয়ার মূলধারার প্রস্তাবের প্রতিও তিনি সমর্থন প্রদান করেন এবং এ ব্যাপারে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
রাষ্ট্রদূত কবি মাহবুব হাসান সালেহ্ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বাঙালিদের সংগঠনগুলোকে শুধু বাংলা ভাষায় নজরুল জয়ন্তী পালন না করে বিভিন্ন ভাষায় তা পালন করার আহ্বান জানান। বিভিন্ন ভাষায় নজরুলের অনুবাদের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করে তিনি মূলধারার উদ্যোগের সঙ্গে তার একাত্মতা প্রকাশ করেন। কবি-আবৃত্তিশিল্পী মাহবুব সালেহ নজরুলের অমর কবিতা ‘বিদ্রোহী’ পাঠ করার মধ্য দিয়ে তার বক্তব্য শেষ করেন।

কলকাতায় দূতাবাসের প্রথম সচিব মোফাকখারুল ইকবাল ‘বিদ্রোহী’ কবিতার সৃষ্টি এবং তার পটভূমিসহ ইতিহাস বিশ্লেষণ করেন। এই কবিতার জন্ম-বাড়িটি সংরক্ষণের ব্যাপারে মূলধারার প্রস্তাবের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেন। এ ছাডা ভারতবর্ষে নজরুলের স্মৃতিবিজডিত অন্যান্য জায়গাসমূহ চিহ্নিত করে তা দর্শনীয় করে গড়ে তোলার ব্যাপারে মূলধারাকে আরো সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রদূত মসয়ূদ মান্নান কাজী নজরুল ইসলামের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ইন্টারনেট বিপর্যয়ে কিছুক্ষণ পর বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় তিনি সভাপতির মাধ্যমে জানান যে, নজরুল নিজেই বাংলাদেশের সুবর্ণ ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। তিনি একজন মহান কবি, সংগীতশিল্পী এবং দার্শনিক ছিলেন। তাঁর লেখাগুলিতে স্বাধীনতা, মানবতা, প্রেম এবং বিপ্লবের মতো বিষয়গুলি অন্বেষণ করে পাওয়া যায়। রাষ্ট্রদূত মনে করেন, বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতা ও সহিংসতার প্রেক্ষাপটে নজরুলের লেখাসমূহ এখন আরও বেশি প্রাসঙ্গিক। গত বছর তাশখন্দে দায়িত্বপালনকালীন সময়ে তিনি নজরুলের প্রয়াণদিবসে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন সহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। চৈনিক ও উজবেক ভাষাসহ বিভিন্ন ভাষায় নজরুলের অনুবাদ করানোর ব্যাপারে ভূমিকা রেখে চলেছেন।

অনুষ্ঠানটির সার্বিক পরিকল্পনায় ছিলেন শিল্পী নাহিদ নাজিয়া ও কবি সৈয়দ আল ফারুক। দু ঘন্টারও বেশি সময় ধরে প্রচারিত এ আয়োজনে মূলধারার মিডিয়া পার্টনার ছিলো দ্য গ্লোবাল টিভি এবং নেপথ্য সহায়তায় ছিলেন গ্লোবাল টিভির কর্নধার আবৃত্তিশিল্পী নাজমুল হোসেন। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক দশর্ক-শ্রোতা অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেন এবং বিভিন্ন আলোচনায় তাদের মূল্যবান মতামত প্রদান করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *