শনিবার, ৫ই ডিসেম্বর, ২০২০ ইং, ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
আজ শনিবার | ৫ই ডিসেম্বর, ২০২০ ইং

প্রেমিকার বক্তব্য কি?

মৃত্যুর ৬ বছর পর প্রেমিক হাজিরের ঘটনায় চাঞ্চল্য

শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২০ | ১০:৫৭ এএম | 158 বার

মৃত্যুর ৬ বছর পর প্রেমিক হাজিরের ঘটনায় চাঞ্চল্য

অপহরণ ও হত্যার পর লাম গুম করার ছয় বছর পর মৃত ব্যক্তি নারায়ণগঞ্জের আদালতে সশরীরে হাজির হওয়ায় ওই মামলা থেকে ৬ জন আসামীকে অব্যাহতি দিয়েছে। বৃহস্পতিবার শুনানী শেষে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট বেগম ফারহানা ফেরদৌস এ আদেশ দেন। এ অপহরণ মামলায় দুই আসামি তাসলিমা ও রফিক দেড় বছর এবং তাসলিমার বাবা ও ভাইসহ আরও ৩ জনও দেড় থেকে তিন মাস জেল হাজত থাকায় ক্ষতিপুরণ দাবী করে মামলা করবেন বলে জানান আ্ইনজীবি। জেল খাটা ও ৬ বছর মামলা পরিচালনায় ক্ষতিগ্রস্থারা দাবী করেন তাদেরও ক্ষতি পূরন। ( ভিডিও নীচে )

২০১৪ সালে নিখোঁজ হলেও ২০১৬ সালের ৯ মে ছেলেকে অপহরণ করে হত্যার উদ্দেশ্যে গুম করা হয়েছে অভিযোগ এনে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায় মামলা করেন মামুনের বাবা আবুল কালাম। সেই মামলায় আসামী করা হয় গার্মেন্টসকর্মী মামুনের কথিত প্রেমিকা তাসলিমা, তার বাবা রহমত উল্লাহ, ভাই রফিক, খালাতো ভাই সাগর, সোহেল ও ছাত্তার মোল্লাকে। মামলার পরে সকল আসামীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। প্রথমে তদন্ত করে ছয় জনের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ এনে আদালতে রিমান্ড প্রতিবেদন দেন ফতুল্লা থানার এসআই মিজানুর রহমান। পুলিশের আবেদনে মাকসুদা বেগম নামের এক নারী-চাক্ষুস সাক্ষী হিসেবে দেয়া ‘অপহরণ করে খুন করার উদ্দেশ্যে গুম’র বর্ণনা ১৬১ ও ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়।

ফতুল্লা থানা-পুলিশের পর মামলাটি তদন্ত করে গোয়েন্দা পুলিশ-ডিবি। তারা মরদেহ খুঁজে না পাওয়ার কথা জানান আদালতকে। এর পর মামলাটি তদন্ত করে সিআইডি। ২৩ মাস তদন্ত শেষে তারাও আদালতে অপহরণের প্রমাণ হাজির করে প্রতিবেদন দেয়। এর পর শুরু হয় বিচার। গত ৩০ সেপ্টেম্বর শুনানি চলাকালে মামুন নিজেই হাজির হন বিচারকের সামনে। এ ঘটনায় সৃষ্টি হয় চাঞ্চল্যের।
ভুক্তভোগীদের পক্ষের আইনজীবী জানান, আদালত ৬ জনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। একটি মিথ্যা মামলায় আসামি তাসলিমা ও রফিক দেড় বছর এবং তাসলিমার বাবা ও ভাইসহ আরও ৩ জনও বিভিন্ন মেয়াদে জেল হাজতে ছিল। এজন্য ক্ষতিপুরণ দাবী করে মামলা করবেন।
মিথ্যা মামলা দিয়ে ধরে নিয়ে রিমান্ডে এনে আত্যাচার করেছে পুলিশ। এ অপহরণ মামলায় আসামি তাসলিমা ও রফিক দেড় বছর এবং তাসলিমার বাবা ও ভাইসহ আরও ৩ জনও দেড় থেকে তিন মাস জেল হাজতে থাকায় মামুনকে খুন না করে, অপহরণ না করে মিথ্যা মামলায় সাজা খেটেছি। যারা এই মিথ্যা মামলা করে হয়রানি করেছে তাদের শাস্তি ও ক্ষতিপূরণ দাবী করেন মামলার ভ’ক্তবোগিরা।

অপহরণ ও হত্যার পর লাম গুম করার ছয় বছর পর মৃত ব্যক্তি সশরীরে হাজির হওয়ায় ঘটনায় আদালত মামলার তদন্তকারী ফতুল্লা থানার এস আই মিজানুর রহমান, সিআইডি’র উপপরির্দশক জিয়াউদ্দিন উজ্জল এবং প্রতিবেদন অনুমোদনকারী সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ হারন অর রশীদকে আদালতে হাজির হয়ে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশদিয়েছিলেন। তারাও সশরীরে হাজির হয়ে ব্যখ্যা দেন। পরে আদালত তদন্ত প্রতিবেদন অনুমোদনকারী সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ হারন অর রশীদকে এই মামলার তদন্ত থেকে অব্যাহতি ও অন্য দুই তদন্ত কর্মকর্তারা ব্যাপারে নথি দেখে আদেশ দিবেন বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবি।

ভিডিও: ভুক্তভোগী তাসলিমা ও সোহেল, আইনজীবী সৈয়দ জিল্লুর রহমান ও এ পি পি এমদাদ হোসেনের বক্তব্য   

রফিকুল ইসলাম রফিক, নারায়ণগঞ্জ


সর্বশেষ  
জনপ্রিয়  
ফেইসবুক পাতা