শনিবার, ৫ই ডিসেম্বর, ২০২০ ইং, ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
আজ শনিবার | ৫ই ডিসেম্বর, ২০২০ ইং

অকুতোভয়ে

ব্যারিস্টার রফিকের বিরল অবদান জেনে অবাক হবেন (ভিডিও)

শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০ | ৮:৪৫ এএম | 148 বার

ব্যারিস্টার রফিকের বিরল অবদান জেনে অবাক হবেন (ভিডিও)

ব্যক্তি জীবনে লোভ লালসা ও রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রভাবিত না হয়ে  অকুতোভয়ে  কাজ করেছেন সদ্য প্রয়াত সুপ্রিম কোর্টের বর্ষীয়ান আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হক।  স্বনামধন্য আইনজীবী কাজ করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জিয়াউর রহমান, এরশাদ, খালেদা জিয়া ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে।  দেশের ইতিহাসে ও আইন পেশায় এমনটি বিরল। বাংলাদেশের আর কোনো কোনো আইনজীবীর ক্ষেত্রেও এমন নজির নেই।

সব সময় উচিত কথা বলতেন। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রায় সব প্রভাবশালী নেতার আইনজীবীও ছিলেন তিনি। আবার তাঁদের অপকর্মের সমালোচনা করতেও ছাড়েননি।

কখনো কারো রক্তচক্ষুকে ভয় পাননি সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রফিক-উল হক। এক-এগারোর সামরিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দুই মহিলা নেত্রীর দুঃসময়ে তাদের পাশে দাঁড়ান তিনি। অকুতোভয়ে তাদের জন্য আইনি লড়াই পরিচালনা করেন।

শুধু প্রতিথযশা আইনজীবীই ছিলেন না, সমাজসেবক হয়ে দেশের নানা সংকটে ভূমিকা রেখেছেন তিনি। জীবিত অবস্থায় ব্যারিস্টার রফিক উল হক নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন নিয়ে বলেছিলেন , ‘ এখন আর কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত করে আনতে পেরেছি। তার কন্যা শেখ হাসিনাকেও ওয়ান-ইলেভেনের সময় জেল থেকে মুক্ত করে এনেছি। আবার রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্ত্রী খালেদা জিয়াকেও জেল থেকে মুক্ত করতে পেরেছি। এটাই বড় পাওয়া। ।’

রফিক-উল হকের জন্ম ১৯৩৫ সালের ২ নভেম্বর কলকাতায়। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেয়ার পর তিনি এলএলবি ডিগ্রি করেন।

তিনি ১৯৬০ সালে কলকাতা উচ্চ আদালতে আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরে বার অ্যাট ল করেন যুক্তরাজ্য থেকে।

ব্যারিস্টার রফিক ১৯৬২ সালে ঢাকার উচ্চ আদালতে যোগ দেন। ১৯৭৫ সালে তিনি আপিল বিভাগে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হিসাবে তালিকাভুক্ত হন।

১৯৯০ সালে বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল করা হয়েছিল তাকে।

সমাজসেবায় ব্যারিস্টার রফিকঃ 

বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের অধিকারী এই আইনজীবী আইন পেশায় সফলতা হিসেবে অনেক অর্থ উপার্জন করেছেন ; যার বড় অংশই খরচ করেছেন সমাজসেবায় ও মানুষের কল্যাণে। প্রতিষ্ঠা করেছেন বেশ কয়েকটি হাসপাতাল, এতিমখানা, মসজিদ ও মেডিকেল কলেজ।

নিজে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়েছিলেন ১৯৮৬ সালে। তাই গরিব মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় প্রবল টান ছিল ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের।

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে এখন একটি ১০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণ হচ্ছে। এ ছাড়া ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠা করেছেন সুবর্ণ ক্লিনিক। ঢাকা শিশু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায়ও ভূমিকা ছিল এই আইনজীবীর।

বারডেম হাসপাতালের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ ও নূরজাহান ওয়ার্ড, আহছানিয়া মিশন ক্যানসার হাসপাতাল এবং আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চেয়ারম্যান রফিক-উল হক। অন্তত ২৫টিরও বেশি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তিনি সরাসরি জড়িত ছিলেন।

বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে আদ-দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন রফিক-উল হক। তিনি শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর আদ-দ্বীন হাসপাতালে মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। রফিক-উল হকের স্ত্রী ফরিদা হক বেশ কয়েক বছর আগে মারা যান। তার ছেলে ফাহিম-উল হকও আইনজীবী।

ভিডিওঃ ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের জীবনী ও নাজানা অনেক কাহিনী ( নিজস্ব জবানসহ )


সর্বশেষ  
জনপ্রিয়  
ফেইসবুক পাতা