শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২০ ইং, ১৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
আজ শুক্রবার | ৩০শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

সাইবেরিয়ার চমকপ্রদ তথ্য জানেন কি? (ভিডিও)

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২০ | ৯:৪৩ পিএম | 26 বার

সাইবেরিয়ার চমকপ্রদ তথ্য জানেন কি? (ভিডিও)
সাইবেরিয়ার মেলা

সাইবেরিয়া নাম আমরা শুনেছি, কিন্তু জানি কি দেশ সম্পর্কে। সাইবেরিয়া প্রায় সমগ্র উত্তর এশিয়া নিয়ে গঠিত একটি বিস্তীর্ণ ভৌগোলিক অঞ্চল। সপ্তদশ শতাব্দী থেকে সাইবেরিয়া রাশিয়ার অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। সাইবেরিয়া পূর্বে উরাল পর্বতমালা থেকে পশ্চিমে প্রশান্ত মহাসাগর ও উত্তর মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। এর উত্তরে উত্তর মহাসাগর এবং দক্ষিণে কাজাখিস্তান, মঙ্গোলিয়া ও চীন সীমান্ত। সাইবেরিয়ার আয়তনকে একটি দেশ হিসেবে তুলনা করা হয় তবে এর আয়তন প্রায় কানাডার কাছাকাছি। অর্থাৎ সাইবেরিয়া যদি কখনো নিজেকে রাশিয়ার থেকে আলাদা করতে চায় তবে এটি বিশ্বের বৃহত্তম দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হবে।

 

সাইবেরিয়া মানেই প্রচন্ড শীতের প্রকাণ্ড এক অঞ্চল। রাশিয়ার উরাল পর্বতের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত এ অঞ্চলটি ঘিরে দুনিয়াবাসীর আগ্রহের কোনো কমতি নেই। এর বিশালত্ব এত বেশি যে শুধু সাইবেরিয়াকে নিয়েই যদি কোনো দেশ গঠিত হতো, তবেও সেটি হত আয়তনে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দেশ! চলুন জেনে আসা যাক পৃথিবীর অন্যতম শীতল এই এলাকা সম্বন্ধে কিছু চমকপ্রদ তথ্য-

১। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দেশ রাশিয়ার সিংহ ভাগ জুড়েই রয়েছে সাইবেরিয়া। এই সুবিশাল অঞ্চলের আয়তন প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ বর্গ কিলোমিটার বা ৫১ লাখ বর্গ মাইল! রাশিয়ার মোট আয়তনের তিন চতুর্থাংশ জুড়েই রয়েছে সাইবেরিয়া, পৃথিবীর মোট স্থলভাগের দশ ভাগের এক ভাগ! তবে জনসংখ্যার ঘনত্বের কথা বিবেচনা করলে সাইবেরিয়া হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে কম ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চল। প্রতি বর্গমাইলে সেখানে মাত্র ৭ থেকে ৮ জন মানুষ বসবাস করে!

২। সাইবেরিয়া তার তীব্র ও অসহনীয় শীতকালের জন্য বিখ্যাত হলেও সারা বছর জুড়ে সেখানকার তাপমাত্রা কিন্তু এতটা শীতল থাকে না! শীতকালে এ অঞ্চলের তাপমাত্রা শূন্যের ৭০ ডিগ্রি নিচে নেমে এলেও এখানকার গ্রীষ্মকাল কিন্তু বেশ উষ্ণ। পশ্চিম সাইবেরিয়ার কিছু এলাকায় তো গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছায়! এমন অদ্ভুত ঋতু বৈচিত্র্যের পেছনে দায়ী হচ্ছে এখানকার মহাদেশীয় জলবায়ু। তীব্র শীতকাল এবং উষ্ণ গ্রীষ্মকাল এ জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য।

৩। সাইবেরিয়ার কথা শুনলেই অনেকের মাথায় আসে মানুষের বসবাসের অনুপযোগী তীব্র আবহাওয়া এক অঞ্চলের কথা। কিন্তু সত্যি কথা বলতে সেখানে গত সোয়া এক লাখ বছর যাবত মানুষ বসতি গেঁড়ে আসছে। নিমকি, ইভনকি, বুরিয়াতসহ বহু আদিম মানব প্রজাতির বাস ছিল সাইবেরিয়ায়।

৪। পৃথিবীর সবচেয়ে গভীরতম লেকের অবস্থান সাইবেরিয়ায়। এ লেকটির নাম বৈকাল। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় স্বাদু পানির লেকও বটে! পৃথিবীর উপরিতলে থাকা সমস্ত বিশুদ্ধ পানির এক পঞ্চমাংশ ধারন করে আছে এই লেক। লেকটির গভীরতা ৫ হাজার ৩৮৭ ফুট! বৈকালের চতুর্দিক ঘিরে আছে বিশাল সব পর্বত। অন্তত ৩৩০ টি নদী এই লেকে পতিত হয়েছে! এই লেকের বিশালতার কারণে অনেকে এটিকে বৈকাল সাগর বলে থাকেন! শীতকালে পুরো বৈকাল জমে যায়, তখন কোথাও কোথাও এর উপরিভাগে থাকে প্রায় সাড়ে ছয় ফুট বরফের আস্তর। গ্রীষ্মকালে অনেক জায়গায় ঝড়ের কারণে বৈকালের ঢেউ প্রায় সাড়ে ১৪ ফুট পর্যন্ত উঁচু হতে পারে! এই বিশাল লেক বছরের কিছু সময় শান্ত শীতল বরফ পিণ্ড আবার কিছু কিছু সময় তরঙ্গময় নদীর ভূমিকায় অবতারিত হয়।

ভিডিওঃ মেলায় মহিলাদের পরিবেশিত নৃত্য ও গান

৫। সমগ্র রাশিয়ায় প্রাকৃতিক গ্যাস ও খনিজ তেলের ভান্ডার হিসেবে বিবেচিত। তবে রাশিয়ার এ প্রাকৃতিক সম্পদগুলোর ৭০ শতাংশেরও বেশি আসে সাইবেরিয়া থেকে! বিশেষ করে পশ্চিম সাইবেরিয়ার প্রায় ২০ লাখ বর্গ কিলোমিটার জায়গা জুড়ে রয়েছে এসব প্রাকৃতিক সম্পদের বিপুল সঞ্চয়! এ সাইবেরিয়ান খনিগুলোর কারণেই রাশিয়া আজ পৃথিবীর অন্যতম প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানিকারক দেশ।

৬। পৃথিবীর দীর্ঘতম রেল লাইনের অবস্থানও কিন্তু সাইবেরিয়াতেই! হ্যাঁ, বলছি ট্রান্স সাইবেরিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্কের কথা। ৫ হাজার ৭৭১ মাইলের (৯২৮৮ কিলোমিটার প্রায়) এ সুদীর্ঘ রেললাইন সংযুক্ত করেছে মস্কো ও ও ভ্লাদিভস্তককে। প্রতিটি স্টেশনে দশ থেকে কুড়ি মিনিটের বিরতিতে এ সম্পূর্ণ যাত্রার দৈর্ঘ্য হয় ছয় রাত সাত দিন! এই দীর্ঘ যাত্রাপথে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে নয়নাভিরাম সব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। মোট আটটি টাইম জোন অতিক্রম করতে হয় এই পুরোটা পথে। যাত্রামধ্যে পড়বে বিখ্যাত বৈকাল হ্রদ, বার্চ ও পাইন বন এবং উরাল পর্বতমালা! এই দীর্ঘ রেলপথের ঠিক মধ্যবিন্দুতে যে স্টেশনটি রয়েছে তার নাম তায়শেত। ৩৩ হাজার অধিবাসীর এ শহরটি ঐতিহাসিকভাবেও খুব গুরুত্বপূর্ণ। এখান থেকেই যাত্রা শুরু করেছে বৈকাল – আমুর মেইন লাইন, যে রেলপথটি চলে গেছে ট্রান্স সাইবেরিয়ানের সমান্তরাল হয়ে।

 


সর্বশেষ  
জনপ্রিয়  
ফেইসবুক পাতা