রবিবার, ৬ই ডিসেম্বর, ২০২০ ইং, ২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
আজ রবিবার | ৬ই ডিসেম্বর, ২০২০ ইং

বিচিত্র ও বিতর্কিত ম্যাকএ্যাফির প্রতিষ্ঠাতাকে গ্রেফতার

মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২০ | ৮:৩১ পিএম | 75 বার

বিচিত্র ও বিতর্কিত ম্যাকএ্যাফির প্রতিষ্ঠাতাকে গ্রেফতার

সুপরিচিত এ্যান্টি-ভাইরাস সফটওয়্যার কোম্পানির কর্ণধার জন ম্যাকএ্যাফিকে স্পেনে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি কর ফাঁকির এক মামলায় অভিযুক্ত হয়েছেন এবং তাকে বিচারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেয়া হতে পারে।

কৌঁসুলিরা বলছেন, তিনি চার বছর ধরে ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেননি – যদিও তিনি এর মধ্যে পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করে, বক্তৃতা দিয়ে, ক্রিপটোকারেন্সির ব্যবসা করে এবং তার জীবনী প্রকাশের কপিরাইট বিক্রি করে লক্ষ লক্ষ ডলার আয় করেছেন।

এসব আয়ের সাথে অবশ্য তার নিজের নামে তৈরি ম্যাকএ্যাফি এ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এক বিবৃতিতে বলেছে, মি. ম্যাকএ্যাফি তার নিজের আয় তার মনোনীত অন্য লোকদের নানারকম এ্যাকাউন্টে জমা দিয়েছিলেন। ২০১৪ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত তিনি কর দেবার দলিল জমা দেননি। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে অন্যদের নামে থাকা প্রমোদতরী ও বাড়ি-জমির মতো সম্পদ গোপন করার অভিযোগ আছে।

জন ম্যাকএ্যাফি এসব অভিযোগের ব্যাপারে কোন মন্তব্য করেননি।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা ৩০ বছর পর্যন্ত কারাদন্ড হতে পারে।

বিতর্কিত ব্যক্তি
প্রযুক্তির জগতে মি. ম্যাকএ্যাফি একজন বিতর্কিত ব্যক্তি।

তিনি সবার নজর কাড়েন ১৯৮০র দশকে – যখন তিনি ম্যাকএ্যাফি ভাইরাসস্ক্যান নামে প্রথম বাণিজ্যিক এ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার বাজারে ছাড়েন।

এটা তারপর শত শত কোটি ডলারের এক শিল্পে পরিণত হয়।

মি.ম্যাকএ্যাফি অবশ্য পরে সেই ব্যবসা ইনটেল কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দেন।

তবে তিনি এখনো তার নিজের উদ্যোগে বিভিন্ন সাইবার-সিকিউরিটি পণ্য তৈরি করছেন।

তিনি নিজে বহুবার ট্যাক্স দেবার ব্যাপারে তার বিরাগ প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করেন ট্যাক্স জিনিসটাই অবৈধ।

বিচিত্র কর্মকান্ড

মি. ম্যাকএ্যাফির নানা বিচিত্র কর্মকান্ড বিভিন্ন সময় খবর হয়েছে।

মধ্য আমেরিকার দেশ বেলিজে ২০১২ সালে তার প্রতিবেশীকে গুলিবিদ্ধ এবং মৃত অবস্থায় পাওয়া যাবার পর তিনি ছদ্মবেশ ধরে পালিয়ে গিয়েছিলেন।

বিবিসিকে তিনি বলেছিলেন – ওই মৃত্যুর সাথে তার কোন সম্পর্ক নেই। তবে পুলিশ এখনো তার ব্যাপারে খোঁজখবর নিচ্ছে।

তার প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে তরুণী মেয়ে ‘বন্ধু’রা তার উল্কি-আঁকা খালি গায়ে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে।

ডমিনিকান রিপাবলিকে তাকে একবার কিছু সময়ের জন্য গ্রেফতার করা হয়েছিল – দেশটিতে অস্ত্র নিয়ে আসার অভিযোগে।

২০১৬ ও ২০২০ সালে মি. ম্যাকএ্যাফি লিবার্টারিয়ান পার্টি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।

কেউ কেউ মনে করেন তিনি একজন বিকারগ্রস্ত উন্মাদ মানসিকতার লোক। একজন সাংবাদিক – যিনি বহুবার তার সাক্ষাতকার নিয়েছেন – বর্ণনা করেন যে মি. ম্যাকএ্যাফি মিথ্যে বলেন, প্রতারণা করেন এবং পরিস্থিতিকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করতে ওস্তাদ।

ম্যাকএ্যাফি নিজে স্বীকার করেন যে তাকে ‘সন্দেহবাতিকগ্রস্ত, স্কিৎসোফ্রেনিক, এবং সিলিকন ভ্যালির বন্য শিশু’ বলা হয়েছে, কিন্তু তিনি আসলে একজন উদ্যোক্তা, কৌতুহলী এবং সমস্যা সমাধান করতে ভালোবাসেন।

ম্যাকএ্যাফির নামে এ্যান্টিভাইরাস, যা তিনি নিচে কখনো ব্যবহার করেননি
ছবির উৎস,INTEL
ছবির ক্যাপশান,
ম্যাকএ্যাফির নামে এ্যান্টিভাইরাস, যা তিনি নিচে কখনো ব্যবহার করেননি

মি. ম্যাকএ্যাফির জন্ম যুক্তরাজ্যে। তার মা ইংরেজ, এবং বাবা ছিলেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটেনে থাকা একজন আমেরিকান সৈন্য।

তার বাবা পরে এ্যালকোহল-আসক্ত এবং অত্যাচারী হয়ে পড়েন এবং নিজের গুলিতে আত্মহত্যা করেন।

ম্যাকএ্যাফির বয়স তখন ১৫। তিনি নিজেও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় এ্যালকোহল এবং মাদকে আসক্ত হন।

তিনি পড়াশোনায় ভালো ছিলেন, তবে অন্য একজন ছাত্রীর সাথে যৌনসম্পর্কের কারণে তার পিএইচডি বাতিল করা হয়।

পরে তিনি বেশ কিছু বড় বড় প্রযুক্তি কোম্পানিতে চাকরি করেন। সাথে সাথে চলছিল নেশা করা। তিনি বলেন, কিছু প্রতিষ্ঠানের বসরাও মাদক নিতেন, কিছু কোম্পানিতে দুপুরের খাবার সময় খোলাখুলি মাদক গ্রহণ করা হতো।

পরে লকহিড মার্টিন কোম্পানিতে কাজ করার সময় তিনি প্রথম কম্পিউটার ভাইরাসের সাতে পরিচিত হন, এবং বের করেন কম্পিউটারগুলোকে ভাইরাসমুক্ত করার এক পদ্ধতি।

সম্প্রতি এক ভিডিওতে মি ম্যাকএ্যাফিকে তরুণী পরিবেষ্টিত অবস্থায় দেখা যায়
ছবির উৎস,MCAFEE
ছবির ক্যাপশান,
সম্প্রতি এক ভিডিওতে মি ম্যাকএ্যাফিকে তরুণী পরিবেষ্টিত অবস্থায় দেখা যায়

এর পরই তিনি নিজের নামে এক কোম্পানি চালু করে এর ব্যবসা শুরু করেন। অনেক পরে তিনি এই কোম্পানি ইনটেলের কাছে বিক্রি করে দেন ৭৬০ কোটি ডলারে।

তারই নামে কোম্পানি এ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার বিক্রি করলেও , ম্যাকএ্যাফি বলেন, তিনি নিজে কখনো তার পণ্য ব্যবহার করেননি।

“আমি সবসময়ই আক্রান্ত হচ্ছি, কিন্তু আমি কোন সফটওয়ার সুরক্ষা ব্যবহার করি না। আমি সব সময় আমার আইপি ঠিকানা পরিবর্তন করতে থাকি, কোন ডিভাইসে আমার নাম দিই না এবং ভাইরাস ঢুকতে পারে এমন কোন সাইটে আমি যাই না। ”

“আমি নিরাপদ কম্পিউটিং করি। কেউ আমাকে ইমেইল করলে তাকে ফোন করে জেনে নেই তিনি আমাকে ইমেইল করেছেন কিনা – তার আগে সেই ইমেইল খুলি না। “


সর্বশেষ  
জনপ্রিয়  
ফেইসবুক পাতা