শনিবার, ৫ই ডিসেম্বর, ২০২০ ইং, ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
আজ শনিবার | ৫ই ডিসেম্বর, ২০২০ ইং

প্রস্নফাঁসকারীর ফাঁসঃ জড়িত ৫ ডাক্তার ও ৪টি কোচিং

মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২০ | ৭:০৭ পিএম | 128 বার

প্রস্নফাঁসকারীর ফাঁসঃ জড়িত ৫ ডাক্তার ও ৪টি কোচিং

গত চার পাঁচ দিন ধরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারির সঙ্গে অভিযান চালিয়ে আবদুস সালামকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এই আবদুস সালাম-ই সরকারি মেডিকেল ও ডেন্টালে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অন্যতম হোতা ও শিক্ষা স্বাস্থ্য ব্যুরোর মেশিনম্যান।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির সাইবার পুলিশের বিশেষ পুলিশ সুপার এসএম আশরাফুল আলম এসব তথ্য জানান।

প্রেস থেকে প্রশ্নপত্র আনতেন আবদুস সালাম। পরে খালাতো ভাই জসীমউদ্দীনের মাধ্যমে বিভিন্ন ছাত্রছাত্রী বা তাদের অভিভাবকের কাছে বিক্রি করতেন লাখ লাখ টাকায়। তাদের এই প্রশ্নফাঁস সিন্ডিকেটে রয়েছে আরো ৫/৬ জন অসাধু ডাক্তার ও তিন চারটি কোচিং সেন্টার।

তিনি জানান, গতকাল সোমবার রাতে রাজধানীর রামপুরার বনশ্রী এলাকা থেকে সালামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার কাছ থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিশেষ করে মেডিকেল প্রশ্নপত্র ফাঁসের পুরো তথ্য বেরিয়ে আসে।

আশরাফুল আলম বলেন, ২০১৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে মামলার তদন্ত করতে গিয়ে সরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সন্ধান পাওয়া যায়। ওই সময় এসব প্রশ্নপত্র ফাঁসের অন্যতম হোতা সানোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকেই মূলত প্রথম মেডিকেল প্রশ্নফাঁসের সুনির্দিষ্ট তথ্য বেরিয়ে আসে। এরপর সিআইডির সাইবার ক্রাইম ইউনিট বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক তদন্ত শুরু করে। তদন্তের অংশ হিসেবেই সালামের নাম আসে।

চলতি বছরের ১৯ জুলাই মিরপুরের একটি বাসায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় সালামের ভাতিজা জসিম উদ্দিন ও পারভেজ নামে অপরজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। জসিমের কাছ থেকে ২ কোটি ৩০ লাখ টাকার চেক ও দুই কোটি ২৭ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র উদ্ধার করা হয়।

সিআইডি কর্মকর্তারা সন্দেহ করছেন, তারা প্রতিটি প্রশ্ন বা প্রশ্নপত্র বিভিন্ন শিক্ষার্থী বা তাদের অভিভাবকদের কাছে সর্বনিম্ন পাঁচ থেকে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেছে। এভাবে তারা বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য আছে। এসব টাকা দিয়ে তারা নামে-বেনামে স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ও ব্যাংকে বিভিন্ন নামে টাকা রেখেছে। যার তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সেক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা দায়ের করা হবে। এছাড়া আব্দুস সালামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠানো হবে।

সিআইডি জানায়, একটি খুনের মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি হওয়ায় আবদুস সালামকে ২০১৫ সালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে। আবদুস সালামকে ২০০৬-২০০৯ সাল পর্যন্ত এক দফা প্রশ্ন ছাপার কাজ থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছিলো। এক প্রশ্নের জবাবে আশরাফুল আলম বলেন, কীভাবে সালাম আবার প্রেসের কাজ ফিরে পেলেন, সে সম্পর্কে তারা নিশ্চিত নন। এ ব্যাপারে খোঁজখবর চলছে।


সর্বশেষ  
জনপ্রিয়  
ফেইসবুক পাতা