শুক্রবার, ২৭শে নভেম্বর, ২০২০ ইং, ১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
আজ শুক্রবার | ২৭শে নভেম্বর, ২০২০ ইং

ঢাকায় একটি কঙ্কাল নিয়ে যত রহস্য

মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২০ | ৭:০১ পিএম | 78 বার

ঢাকায় একটি কঙ্কাল নিয়ে যত রহস্য

ঢাকার শ্যাওড়াপাড়ার বাসিন্দা হানিফ সরকারের দিনটা খুব সাদামাটাভাবেই শুরু হয়েছিল। কিন্তু সেদিন বিকেলে পিলে চমকে ওঠার মতো এমন এক তথ্য তিনি পেলেন যা কোনদিন কল্পনাও করেননি।

বাড়িতে একটা কঙ্কাল পাওয়া গেছে!

দীর্ঘদিন ধরে তার বাড়িতে পানির লাইন মেরামতের জন্য যে মিস্ত্রি কাজ করেন ফোনকলটি ছিল তার।

“ফোনে মিস্ত্রি আমাকে জানালো স্যার একটু নিচতলায় আসেন। সে আমাকে ফোনে কথাটা বলতে চায়নি। নিচে যাওয়ার পর যখন সে আমাকে বলল যে স্যার বাথরুমের ফলস ছাদের উপর মনে হয় একটা লাশ পাইছি। আমি বললাম ব্যাটা কি কস, পাগলের কথা।”

কিন্তু তার কথাই সত্য হল। তবে পলিথিন, সিমেন্ট আর কংক্রিট দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় যা পাওয়া গেল তা একটি মানুষের কঙ্কাল।

যার বিভিন্ন অংশ টুকরো হয়ে গেছে অথবা খুলে আলাদা হয়ে গেছে। সিনেমায় এমন দৃশ্য নানা সময় দেখা যায়। পুরনো বাড়ি থেকে বের হয় মরদেহ, কঙ্কাল অথবা মূল্যবান কোন বস্তু।

মি. সরকার বলছেন, “আমার কপালে কঙ্কালটাই জুটল।”

সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে তার নিচতলার ভাড়াটিয়া জানালেন যে বাথরুমে পানি আসছে না।

“আমি আমার পার্মানেন্ট মিস্ত্রিকে বললাম বিষয়টা দেখতে। সে কয়েকদিন পরে সেখানে গেল। খুঁজে কোন সমস্যা না পেয়ে সে বাথরুমের উপরে ফলস ছাদে ওঠে। সেখানে পাইপ পরীক্ষা করতে গিয়ে দেয়াল ভাঙতে হয়েছে। সেই সময় বের হয়ে এলো প্লাস্টিকে মোড়ানো কিছু একটা।”

মি. সরকার জানালেন তিনি থানায় গিয়ে পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন।

ঘটনার দিন পুলিশের প্রায় সবগুলো বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা সারারাত জুড়ে তার বাড়িতে এসেছে।

পুলিশের উপস্থিতির পর যখন প্রতিবেশীরা বিষয়টি জানলেন তখন তারাও ভিড় করতে লাগলেন হানিফ সরকারের বাড়িতে।

ছবির উৎস, MIRPUR MODEL THANA, ছবির ক্যাপশান, এই অবস্থায় পাওয়া গেছে কঙ্কালটি।

কঙ্কাল নিয়ে রহস্য

মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মোস্তাজিরুর রহমান বলছেন, তার কর্মজীবনে এযাবতকালে এমন রহস্যজনক অভিজ্ঞতা তার হয়নি।

তিনি বলছেন, “লাশ সংরক্ষণ করার জন্য চা পাতা ব্যবহার করা হয়েছে। তারপর পলিথিন দিয়ে সেটি মোড়ানো হয়েছে এবং সিমেন্ট, বালু, সুরকি দিয়ে সেটিকে চাপা দেয়া অবস্থায় পাওয়া গেছে।”

তিনি বলছেন, আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে যে কাজটি করেছে সে এই বিষয়ে বেশ দক্ষ।

এই কঙ্কালটি নারী না পুরুষের, বয়স কত, কতদিন আগে হত্যাকাণ্ডটি সংগঠিত হয়েছে, অথবা মৃত্যু হয়েছে সেসব কিছুই এখনো জানা যায়নি। মোঃ মোস্তাজিরুর রহমান বলছেন, কঙ্কালটি ফরেনসিক ও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এই পরীক্ষা না করে বিস্তারিত জানা যাবে না।

সুত্রঃ  বিবিসি


সর্বশেষ  
জনপ্রিয়  
ফেইসবুক পাতা