শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২০ ইং, ১৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
আজ শুক্রবার | ৩০শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

২ শিশুর জন্য মধ্যরাতে হাইকোর্টঃ কি তাঁদের পরিচয়

সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২০ | ১০:৫১ এএম | 85 বার

২ শিশুর জন্য মধ্যরাতে হাইকোর্টঃ কি তাঁদের পরিচয়
প্রয়াত সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল কে এস নবীর দুই নাতিকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিতে ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ওই শিশুসহ উভয় পক্ষকে সেদিন আদালতে আসতে বলা হয়েছে। সেদিন উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদেশের জন্য আদালত দিন ধার্য করেছেন।
রোববার বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান ও বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চ্যুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ বিকেলে এ আদেশ দেন।
এর আগে রবিবার (৪ অক্টোবর) দিবাগত মধ্যরাতে একই আদালত স্বতপ্রনোদিত রুল দিয়ে ওই দুই শিশু ও তাদের মাকে বাসায় ( ধানমন্ডি বাড়ি নং-৯০, রোড নং-৭/এ ) পৌঁছে দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন।
আদেশ অনুসারে রাতেই ধানমন্ডি থানার ওসি ইকরাম হোসেন মিয়া তাঁদের বাসায় পৌঁছে দেন। নির্দেশ বাস্তবায়ন বিষয়ে আজ আদালতে হলফনামা আকারে প্রতিবেদন দেন ওসি। বিকেলে শুনানি নিয়ে আদালত ওই আদেশ দেন। আদালতের রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ওয়ায়েস আল হারুনী।
ওসির প্রতিবেদনের ভাষ্য, ৪ অক্টোবর রাত দেড়টায় কাজী নাহিয়ান নবী, কাজী আদিয়ান নবী, তাদের মা শাহানাজ নবী, কাজের মেয়েসহ আত্মীয়স্বজন ওই স্থানে উপস্থিত হন। উপস্থিত আত্মীয়স্বজন ও তাঁদের চাচা কাজী রেহান নবীর উপস্থিতিতে ওই চারজনকে নিরাপদে তাঁদের ওই বাড়ির নিজস্ব ফ্ল্যাটে পৌঁছে দেওয়া হয়। কাজী রেহান নবী ও বাসার নিরাপত্তাকর্মীদের যথাযথ নিরাপত্তা দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
জানা গেছে, রাজধানী ধানমণ্ডির একটি চারতলা বাড়ির মালিক সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল কেএস নবী। সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল কে এস নবীর দুই ছেলে। বড় ছেলে কাজী রেহান নবী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী। ছোট ছেলে সিরাজুন নবী গত ১০ আগস্ট মারা যান। তাঁর দুই ছেলে কাজী নাহিয়ান নবী ও কাজী আদিয়ান নবী ।

শিশু দুজনের ফুফু (কেএস নবীর বোনের মেয়ে) মেহরীন আহমেদ বলেন, ‘বিবাহবিচ্ছেদের জন্য ওদের বাবা-মা আলাদা থাকতেন। ওরা ওদের বাবার সঙ্গেই দাদার বাড়িতে থাকতো। কিন্তু ওদের বাবার মৃত্যুর পর শিশু দুটি খুব বেশি বিষণ্ন হয়ে পড়ে এবং ওদের মায়ের কাছে কিছুদিন থেকে আবার বাড়িতে ফেরে। কিন্তু তাদের জন্য বাসার গেট খোলা হয়নি। আমরা পরিবার থেকে যোগাযোগ করি। শিশুদের বড় চাচা কাজী রেহান নবীকে ফোন করি। কিন্তু তিনি অসুস্থতার কথা জানিয়ে ওদের পরে বাড়িতে আসতে বলেন। এরপর আমরা ধানমণ্ডি থানাকে বিষয়টি অবহিত করি। পুলিশ এসে তাকে (কাজী রেহান নবী) ফোন করে অনুরোধ করে। এরপর ধানমণ্ডি থানার ওসি (ইকরাম হোসেন মিয়া) আমাদেরকে পরেরদিন আসতে বলেন। কিন্তু শিশু দুটো দেখলো আগেরদিন তারা বাড়ির কম্পাউন্ডে ঢুকতে পারলেও পরেরদিন বাইরের গেটও বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং ভেতরে কুকুর ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর আমরা আবার পুলিশকে জানাই। কিন্তু পুলিশ বললো- আমরা কিছু করতে পারবো না, আপনারা কোর্টের আশ্রয় নেন।’

তিনি আরও জানান, বাড়িটি এখনও কেএস নবীর নামে। সেদিক থেকে দেখলে ওই শিশু দুটিও ওই বাড়ির মালিক। ‘শিশুদের বাবার মৃত্যুর পর তার ব্যাংক-ব্যালেন্স দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারই বড় ভাই রেহান নবী।’

ঘটনাটি নিয়ে রবিবার (৪ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টায় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল একাত্তর টিভির একাত্তর জার্নালে একটি প্রতিবেদন প্রচারিত হয়। এসময় অনুষ্ঠানটি প্রচারকালে বিষয়টি নজরে আসে বিচারপতি আবু তাহের মোহাম্মদ সাইফুর রহমানের। এরপর প্রচারিত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে তিনি মাঝরাতে হাইকোর্টের বেঞ্চ বসিয়ে আদেশ দেন।

কে. এস. নবীর পরিচিতি: 

কাজী শহীদুন নবী (কেএস নবী নামে পরিচিত) একজন বাংলাদেশী আইনজীবী যিনি ১৯৯৬ সাল থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

কাজী শহীদুন নবীর জন্ম তার গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগর থানার ষোলঘর এলাকার কাজী বাড়িতে।

কে. এস. নবীকে ১৯৬১ সালে লন্ডনের লিংকন ইন বারে থেকে ডেকে আনা হয়েছিল। [২] তিনি ঢাকা সেন্ট্রাল ল’ কলেজের অনুষদ হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ১৯৬৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সদস্যপদ গ্রহণ করেন। ১৯৮৬ সালে তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে যোগ দেন।

১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি মুন্সীগঞ্জ -১ আসনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন এবং একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর কাছে হেরেছিলেন। ১৯৯৬-১৯৯৮ সালে তিনি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৯৯ সালে তিনি চলচ্চিত্র অভিনেতা সোহেল চৌধুরী হত্যার সাথে জড়িত, বিদেশে সরকারী গোপনতথ্য এবং দলিল সরবরাহ ও নারী পাচারের অভিযোগে বাংলাদেশী ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই পুলিশ স্পেশাল ব্রাঞ্চ কর্তৃক গ্রেপ্তারের পরে তার আইনজীবী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন


সর্বশেষ  
জনপ্রিয়  
ফেইসবুক পাতা