শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২০ ইং, ১৬ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
আজ শনিবার | ৩১শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

যৌনতা নিয়ে গান্ধীর মনোভাব ও কর্মকাণ্ড

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২০ | ২:০৫ পিএম | 63 বার

যৌনতা নিয়ে গান্ধীর মনোভাব ও কর্মকাণ্ড

মহাত্মা গান্ধী নামে ভুল পরিচিত হলেও পুরো নাম মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী। জন্মেছিলেন ভারতের গুজরাটে, ১৮৮৩ সালে। তার বয়স যখন ১৩ তখন স্ত্রী কস্তুরবার সাথে তার বিয়ে হয়। সেসময় গুজরাটের প্রচলিত সংস্কৃতি অনুযায়ী তার বিয়ের বয়স উপযুক্ত ছিল।শুরুতে দুইজনের যৌন জীবন স্বাভাবিক ছিল।বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই তার স্ত্রী কস্তুরবা গর্ভবতী হন।ঝামেলাটা বাঁধে তাদের বিয়ের দুই বছর পর।গান্ধীর পিতা তখন মৃত্যুশয্যায়।এ সময় গান্ধী তার স্ত্রীর সাথে মিলিত হতে ব্যস্ত ছিলেন।পিতার মৃত্যুর সময় উপস্থিত থাকতে না পারার অনুশোচনা ও পাপবোধ তাকে জর্জরিত করে ফেলে।তিনি মনে করতে শুরু করেন তার এই ‘কামুক প্রেম’-ই পিতার মৃত্যুর কারণ।

তবে তখন পর্যন্ত তার মনে যৌনতার প্রতি নিষেধাজ্ঞা তৈরি হয়নি।দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের যুদ্ধে তাদের পক্ষে সেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করার সময় এবং বোয়ার যুদ্ধ ও জুলুদের বিদ্রোহের সময় তার চিন্তা ছিল কী করে তিনি মানবতার সেবায় নিজেকে আরও ভাল করে নিয়োজিত করতে পারবেন।এরপর তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন ,দারিদ্র্য ও কৌমার্য গ্রহণই এর একমাত্র সমাধান।
১৯০৬ সালে মাত্র ৩৮ বছর বয়সে তিনি ব্রহ্মচর্যার শপথ নেন।এর অর্থ ছিল তিনি আধ্যাত্মিক জীবনযাপন করবেন।যে জীবনের উদ্দেশ্য হচ্ছে সকল প্রকার ভোগ বিলাসিতা ও যৌনতা থেকে একেবারেই দূরে থাকা।দরিদ্রতা গ্রহণে গান্ধীকে কোন বেগ পেতে হয়নি।তবে যৌনতা থেকে দূরে থাকতে তাকে কিছু জটিলতায় পরতে হয়।এর ফলে তিনি তৈরি করেন অদ্ভুত কিছু নিয়ম কানুন যার সাহায্যে সারাক্ষণ যৌনতার মধ্যে থেকেও নিজেকে সংযত রাখা যায়।

এজন্য তিনি আশ্রম স্থাপন করলেন।সেখানে তিনি যৌনতা নিয়ে প্রথম নিরীক্ষা শুরু করেন।সংযম ক্ষমতা লাভ করার জন্য সেখানে বালক বালিকাদের একসাথে ঘুমাতে ও স্নান করতে দেয়া হত।কিন্তু কোন যৌন আকাঙ্ক্ষাকে একেবারেই প্রশ্রয় দেয়া হত না।এর জন্য শাস্তির বিধান ছিল।তিনি স্বামী ও স্ত্রীকে আলাদা থাকার পরামর্শ দিতেন।তার পরামর্শ ছিল কোন স্বামী যদি যৌনাকাঙ্ক্ষা অনুভব করে তবে শীতল পানিতে স্নান করে নিতে হবে।

তবে তার নিজের ক্ষেত্রে ছিল অন্য নিয়ম।তিনি তার থেকে কম বয়সী নারীদের সাথে একসাথে ঘুমাতেন এবং স্নান করতেন।সুশিলা নায়ার নামে একজন নারীর সাথে স্নানের প্রসঙ্গে তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান এসব ক্ষেত্রে কখনো শ্লীলতার সীমা লঙ্ঘন করা হয়নি।বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার পাশে অনেক নারীদের ভিড় জমে।আশ্রমের নিয়ম অনুসারে নারীরা তাদের স্বামীর সাথে শোয়ার অনুমতি পেতেন না।গান্ধীর সাথে তাদের ঘুমাতে হত।

১৯৪৭ সালে তার আধ্যাত্মিক সংযম পরীক্ষার জন্য আরও আকর্ষণীয় ও কমবয়সী নারীর প্রয়োজন হয়ে পড়ে।তার ১৮ বছর বয়সী নাতনি মনুও তার সাথে ঘুমাতেন।গান্ধী মনুকে বলেন, ‘আমাদের শুদ্ধতার অগ্নিপরীক্ষা দিতে হবে যাতে আমরা নিশ্চিত হতে পারি আমরা সবথেকে শুদ্ধ্বরূপে নিজেদের উত্‍সর্গ করতে পারি।এবং আমাদের দুজনের উচিত নগ্ন হয়ে ঘুমানো।’এরপর তার সাথে যুক্ত হন কানু গান্ধীর স্ত্রী আভা।এ বছরের আগস্ট পর্যন্ত তিনি মনু ও আভা দু’জন কে নিয়েই ঘুমাতেন।১৯৪৮ সালে যখন তাকে হত্যা করা হয় তখনও তার সাথে মনু ও আভা দুজনই ছিলেন।

এসব আচরণের কোনোটিই ব্রহ্মচর্যায় অনুমোদিত নয়।তাই তিনি ব্রহ্মচারীর ধারনা নিয়ে নিজের তৈরি করা মতামত তুলে ধরেছিলেন।তিনি মনে করতেন একজন ব্রহ্মচারীর মনে কখনো কামনার উদ্রেক হয় না।যিনি যৌন উত্তেজনা ছাড়াই সুন্দরী নগ্ন নারীদের সাথে শুয়ে থাকতে পারবেন তিনি আরো বেশি ইশ্বরের পথে এগিয়ে যেতে পারবেন।

তার বিশ্বাসে তিনি যতই দৃঢ় ছিলেন ততই তাকে নিয়ে তার পরিবারের সদস্যরা এবং রাজনীতিবিদরা আলোচনা-সমালোচনা করছিলেন।ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু তার যৌনাচরণকে ‘অস্বাভাবিক এবং প্রকৃতিবিরুদ্ধ’ বলে বর্ণনা করেছিলেন।এ কারণে তার অনেক কর্মীও পদত্যাগ করেছিলেন।তবে গান্ধী এসব আপত্তিকে বরং নিজের পক্ষে ব্যবহার করেছিলেন।তিনি বলছিলেন, ‘আমি মনে করি আমার মনুর সাথে ঘুমানো উচিত।আমি যদি আমার সাথে তাকে শুতে না দিই,সেটা কি আমার সংযমের দুর্বলতা হিসেবে বিবেচিত হবেনা?’তার এসব আচরণ তার জীবদ্দশায় উন্মুক্ত ছিল।মৃত্যুর পর তার অনুসারীরা তার মর্যাদা রক্ষায় এসব ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেন।তবে তার যৌন জীবনের এ অস্বাভাবিকতা মোটেই এখন আর গোপন বিষয় নয়।


সর্বশেষ  
জনপ্রিয়  
ফেইসবুক পাতা