বৃহস্পতিবার, ২৫শে নভেম্বর, ২০২০ ইং, ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
আজ বৃহস্পতিবার | ২৫শে নভেম্বর, ২০২০ ইং

মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরীক্ষিত

সত্যিকারের সংস্কৃতসেবী,কে এই তারিক আলী?

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৩:১২ পিএম | 78 বার

সত্যিকারের সংস্কৃতসেবী,কে এই তারিক আলী?

দেশের রাজনীতিতে গণতন্ত্র, সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতার চর্চা যথাযথ না হওয়ার ফলে সমাজে প্রগতির চেতনার চিন্তকের সংখ্যা ক্ষীণতরের পথে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বাহিরে সংস্কৃতি ও উদারতার চর্চায় মূলধারার রাজনীতিকে অগ্রসর করে নিতে উৎসাহ যোগাতেন জিয়াউদ্দিন তারিক আলী। একজন সত্যিকারের সংস্কৃতসেবী হিসেবে দেশকে অগ্রসর করতে আমৃত্যু সচেষ্ট ছিলেন। এমন মানুষের মৃত্যু সামাজের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। দেশপ্রেমিক মানুষের দুষ্প্রাপ্যতা অসাম্প্রদায়িক স্বদেশ প্রতিষ্ঠার অগ্রযাত্রাকে ব্যহত করবে।

সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সভাপতি, সাম্প্রদায়িকতা-জঙ্গিবাদ বিরোধী মঞ্চের যুগ্ম সমন্বয়ক ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের অন্যতম ট্রাস্টি সদ্য প্রয়াত জিয়াউদ্দিন তারিক আলীর মৃত্যুতে আজ শনিবার বিকাল ৪টায় ভার্চুয়াল নাগরিক শোক সভায় বক্তারা এ মন্তব্য করেন।

সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের অন্যতম ট্রাস্টি ডা. সারওয়ার আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শোক সভায় আরো বক্তব্য রাখেন ঐক্য ন্যাপ সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য, বাংলাদেশের ওয়াকার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এম পি, মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল, নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক- অসীম কুমার উকিল, সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদ বিরোধী মঞ্চের সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. নূর মোহাম্মদ তালুকদার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম এম আকাশ, নারী নেত্রী রোকেয়া কবির, হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এড. রানা দাশ গুপ্ত, আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, মানবাধিকার কর্মী অ্যারোমা দত্ত, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনে সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমেদ প্রমুখ। সভা সঞ্চালনা করেন, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন প্রেসিডিয়াম সদস্য খুশী কবির।

আলোচনায় পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন, আপাদমস্তক একজন খাঁটি বাঙালি খুঁজতে গেলে তারিক আলী ছিলেন প্রথম সারিতে। নীরবে সারাজীবন দেশ নিয়ে চিন্তক তারিক আলীর ত্যাগ অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে। কথায় কাজে কখনো তার জীবদ্দশায় অমিল খুঁজে পাওয়া যায়নি। এই কঠিন সময়ে তারিক আলীদের চলে যাওয়া আমাদের ব্যথিত করে। বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে সদা জাগ্রত মানুষটি সারাজীবন সমাজের দরিদ্র, নিপীড়িত, সংখ্যালঘু, আদিবাসী ও নারী-শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠার কাজে নিবেদিত ছিলেন। কোনো রাজনৈতিক দলের সরাসরি প্রতিনিধিত্ব না করলেও তিনি রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির বিষয়ে সচেতন ছিলেন। সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গিবাদ, লুটেরাদের বিরুদ্ধে সদা সোচ্চার থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অগ্রসর করে নেয়ার একজন কান্ডারী ছিলেন তিনি। তার চলে যাওয়া দেশের সংস্কৃতি ও সামাজিক অঙ্গনে শুন্যতা তৈরি করল।

রাশেদ খান মেনন বলেন, বাংলাদেশটিকে ভালোবেসে যারা জীবনকে উৎসর্গ করেছেন তারা জাতির কাছে সদা শ্রদ্ধার পাত্র। এই সময়ে যেমনটি করে সন্ত্রাসবাদ, মাফিয়া, লুটেরা ও ধর্মান্ধতাবাদের পৃষ্টপোষক রয়েছে তেমনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে প্রতিষ্ঠা ও শোষণ নিপীড়ন মুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্নে আমৃত্যু ত্যাগীদের সংখ্যাও এখনও কম নয়। তারিক আলী মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরীক্ষিত সৈনিক ছিলেন। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি শ্রেণি বৈষম্য মুক্ত স্বদেশের পক্ষে লড়াই করে গেছেন। আজকে তার শূন্যতার স্থান পূরণীয় নয় বটে, তবে শোষণ ও নীতিহীনতার বিরুদ্ধে মানব মুক্তির লড়াইলে তারিক আলীর চেতনা আমাদের সাহস যোগাবে।

সুলতানা কামাল বলেন, তারিকের সাথে আমার ছোটবেলা থেকেই বন্ধুত্ব ছিল। কিন্তু কাজের সম্পর্ক দিয়েই তা সুদৃঢ় ভীত পায়। সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তা অন্যমাত্রায় স্থাপিত হয়।

অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, তাঁর চলে যাওয়ার সংবাদ আমার কাছে আকাশ ভেঙ্গে পড়ার অবস্থা হয়। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নির্মাণ করে তিনি অবিস্মরণীয় হয়ে থাবে। তাঁর সারল্য ও সহজ সরল মেলামেশা আমাদের সকলকে মুগ্ধ করে।

ড. নূর মোহাম্মদ তালুকদার বলেন, মুক্তিযুদ্ধকে সমুন্নত রাখার কাজে জাদুঘর প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি এই মানুষটি সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন, সাম্প্রদায়িকতা জঙ্গিবাদ বিরোধী মঞ্চ, ছায়ানট, রবীন্দ্র সঙ্গীত সম্মেলন পরিষদসহ প্রগতির ধারায় আমৃত্যু সক্রিয় ভূমিকা রেখে গেছেন। এতে বুঝা যায় তার পদচারণা সমাজের সর্বস্তরে ছিলো। তিনি আজকে নেই তবে তারিক আলী আমাদের ইতিহাসের স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবেন। আমি তার আত্মার শান্তি কামনার পাশাপাশি তার ত্যাগ ও আকাঙ্খার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার কাজকে অগ্রসর করার তাগিদ অনুভব করছি।

সভাপতির বক্তব্যে ডা. সারওয়ার আলী বলেন, ইতোমধ্যে করোনায় আমরা ড. আনিসুজ্জামান, কামাল লোহানী, জামিলুর রেজা চৌধুরী, তারিক আলীসহ দেশ-বিদেশের অসংখ্য গুণীজনদের হারিয়েছি। আমাদের সামনে এ সকল গুণীজনদের স্বপ্নের অনেক কাজ রয়েছে। এই জটিল পরিস্থিতিতে আমাদের অগ্রসর করে নিতে হবে মুক্তিযুদ্ধের অমিমাংসিত অধ্যায় সমূহকে। নীতিনিষ্ঠতা, আন্তরিকতা ও একাগ্রচিত্তে প্রিয় স্বদেশকে সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত, জঙ্গিবাদ, লুটেরা ও শোষণমুক্ত দেখতে চেয়েছিলেন তারিক আলী, সেই কাজে আমাদেরকে মনযোগী হতে হবে। আজ গভীর শ্রদ্ধার সাথে আমি তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। তার শূন্যতা অপূরণীয় থাকবে আমাদের চিন্তা ও চেতনায়। তারিক আলীদের পথ অনুস্মরণ করে অগ্রসর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে যাবো আমরা।


সর্বশেষ  
জনপ্রিয়  
ফেইসবুক পাতা