শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২০ ইং, ১৬ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
আজ শনিবার | ৩১শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

জানাজা ও দাফন সম্পন্ন

আহমদ শফীর মৃত্যুর অন্য কারণ জানালেন ছেলে

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ২:১০ পিএম | 131 বার

আহমদ শফীর মৃত্যুর অন্য কারণ জানালেন ছেলে

শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকার আসগর আলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসার সাবেক মহাপরিচালক ও হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ্ আহমদ শফী। হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরন করেন তিনি।  দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, শ্বাসকষ্টে ভোগার পাশাপাশি বার্ধক্যজনিত কারণে তার স্বাস্থ্যের অবনতি হচ্ছিল।

কিন্তু তার ছেলে আনাস মাদানী দাবি করেছেন অন্য কারণ। তিনি বলেছেন, হাটহাজারি মাদ্রাসায় কয়েকদিনের ঘটনাপ্রবাহ এবং উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে ‘টেনশনে’ তার ‘হার্ট ফেল’ হয়েছিল। খবর বিবিসির।

চট্টগ্রামে হাটহাজারী মাদ্রাসায় টানা দুদিনের বিক্ষোভের জের ধরে এক পর্যায়ে অবরুদ্ধই ছিলেন আল্লামা শাহ্ আহমদ শফী। গত প্রায় ত্রিশ বছর মাদ্রাসার পরিচালকও ছিলেন তিনি। একইসঙ্গে বাংলাদেশে হেফাজত ইসলাম নাম কওমি ধারা সংগঠনের শীর্ষ নেতাও ছিলেন শাহ্ আহমদ শফী।

এসময় আনাস মাদানী বলেন, ‘আমার আব্বা দীর্ঘদিন রোগে ভুগলেও ভালোর দিকে ছিলেন। বৃহস্পতিবার অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে আব্বাজান হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে গেলেন ও উনাকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে নেয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা আমাকে ফোন দিয়ে বলেছেন আব্বা টেনশনের কারণে হার্ট ফেল করেছিলেন। সেজন্যই আজ এ অবস্থা।’

মাদ্রাসায় যারা বিক্ষোভ করেছিলেন তাদের দাবির মুখে বৃহস্পতিবার রাতের শুরা বৈঠকে নিজের অব্যাহতির পাশাপাশি ছেলে আনাস মাদানীকেও স্থায়ীভাবে মাদ্রাসা থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন আহমদ শফী।

এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘এ অবস্থায় ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে ওই কথাগুলো আমি বলতে চাই না।’

মাদ্রাসার কর্তৃত্ব নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যকার বিরোধের জের ধরে মাদ্রাসার ভেতরে ভাঙচুর ও বিক্ষোভের পর বিক্ষোভকারীরা যেসব দাবি জানিয়েছিলো তার মধ্যে ছিলো আহমদ শফীর সম্মানজনক অব্যাহতির বিষয়টিও।

জানাজা ও দাফনঃ 

শনিবার দুপুরে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে হাজার হাজার মানুষের অংশগ্রহণে হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ আহমদ শফীর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজাকে কেন্দ্র করে লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলূম মঈনুল ইসলাম মাদরাসা সংলগ্ন হাটহাজারী এলাকা।

এতে ইমামতি করেন আল্লামা শাহ আহমদ শফীর বড় ছেলে মাওলানা মোহাম্মদ ইউসুফ। স্মরণকালের সবচেয়ে বড় এই জানাজায় আলেম, রাজনীতিক, সরকারি কর্মকর্তাসহ দেশের নানা প্রান্ত থেকে কয়েক লাখ ধর্মপ্রাণ মানুষ অংশ নেন।

জানাজা শেষে হাটহাজারী আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদরাসার ভেতরের বায়তুল আতিক জামে মসজিদ কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এ সময় শতবর্ষী আলেম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর সহকর্মী, ছাত্র, ভক্ত ও অনুসারীসহ জানাজায় আসা ধর্মপ্রাণ মানুষ কান্নায় ভেঙে পড়েন।

জানাজায় স্থানীয় সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন, র‌্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেনেন্ট কর্নেল মশিউর রহমান, চট্টগ্রামে পুলিশ সুপার রাশেদুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বদিউল আলম অংশ নেন।

 

 


সর্বশেষ  
জনপ্রিয়  
ফেইসবুক পাতা