রবিবার, ২৮শে নভেম্বর, ২০২০ ইং, ১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
আজ রবিবার | ২৮শে নভেম্বর, ২০২০ ইং

সচেতনতা বৃদ্ধি করতে পালিত হচ্ছে বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস

সোমবার, ২৯ জুলাই ২০১৯ | ১১:০১ এএম | 728 বার

সচেতনতা বৃদ্ধি করতে পালিত হচ্ছে বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস

প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী হেপাটাইটিসে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ১৪ লাখ মানুষ মারা যায়। সারাবিশ্বে হেপাটাইটিস এ, বি, সি, ডি ও ই সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি, রোগনির্ণয়, প্রতিরোধ ও প্রতিকার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির উদ্দেশ্যে প্রতি বছর ২৮ জুলাই বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস পালিত হয় ৷

১৯৬৩ সালে হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসের আবিষ্কারক জেনেটিক বিজ্ঞানী বারুচ স্যামুয়েল ব্লুমবার্গের জন্মদিনে দিবসটি পালিত হয়। জাতিসংঘ হেপাটাইটিস ভাইরাসমুক্ত পৃথিবী গড়ার জন্য ২০৩০ সালকে নির্ধারণ করেছে। তার জন্য প্রয়োজন প্রচুর অর্থের বিনিয়োগ। তাই, এ বছর ‘বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস ২০১৯’-এর স্লোগান, ‘Invest in eliminating Hepatitis’.

 

বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস উপলক্ষে সারাবাংলার পাঠকদের জন্য জন্ডিসের কারণ, প্রতিকার ও প্রতিরোধ ও করণীয় সম্পর্কে লিখেছেন চিকিৎসক সংগীতা হালদার।

জন্ডিসের আরেক নাম ইক্টেরাস (ictetus)। মজার ব্যপার হল জন্ডিস কিন্তু কোন রোগ নয়, এটি রোগের লক্ষণ মাত্র। ঠিক যেমন জ্বর- মন খারাপ হলেও হয়, সর্দি হলেও হয়, ডেংগিতেও হয় আবার ক্যান্সারেও হয়। জন্ডিসেও তেমনি নানা রকম লক্ষণ প্রকাশ পায়।

আমাদের রক্তের লোহিত কণিকা তার ১২০ দিনের জীবনকাল শেষ হলে স্বাভাবিক নিয়মেই ভেঙে যায়। এর পর বিলিরুবিন তৈরি করে হয় যা পরবর্তীতে লিভারে বা যকৃতে প্রক্রিয়াজাত হয়। যকৃতে এই বিলিরুবিন পিত্তরসের সঙ্গে পিত্তনালীর মাধ্যমে পরিপাকতন্ত্রে প্রবেশ করে।

পরে অন্ত্র থেকে বিলিরুবিন পায়খানার মাধ্যমে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। বিলিরুবিনের এই দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় যে কোনো অসঙ্গতি দেখা দিলে রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে যায়, যাকে আমরা জন্ডিস বলি। জন্ডিস হলে রক্তে বিলরুবিনের মাত্রা বাড়ার ফলে ত্বক, চোখের সাদা অংশ ইত্যাদি হলুদাভ হয়।

নানা কারণে জন্ডিস হতে পারে। আসুন জেনে নেই জন্ডিসের কারণগুলো কী কী হতে পারে

১) যকৃতের যেকোন রোগ বা প্রদাহ
২) পিত্তনালী ও পিত্তথলীর যেকোন রোগ
৩) বংশগত রোগ যেমন, গিলবার্ট’স সিনড্রোম, ডুবিন-জনসন সিনড্রোম ইত্যাদি। এসমস্ত বংশগত রোগে লিভার থেকে বিলিরুবিন শোষণ হতে বাঁধা দেয়। ফলে জন্ডিস হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

প্রতিরোধ ও প্রতিকার
যেকোন রোগেই সরাসরি চিকিৎসকের কাছে রোগী দেখিয়ে চিকিৎসা নেওয়া উচিৎ। জন্ডিসের মত জটিল রোগের ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম নয়। জন্ডিসের কোন লক্ষণ দেখা দিলেই সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন আর জেনে নিন করণীয় সম্পর্কে।  জেনে নেবো প্রতিরোধ আর প্রতিকারের মাধ্যমে সাবধান থাকার উপায়। এসবই নির্ভর করে ঠিক কি কারণে জন্ডিস হতে পারে তার উপর।

১. হেপাটাইটিস- এ ও ই খাদ্য ও পানির মাধ্যমে সংক্রমিত হয়। তাই সব সময় বিশুদ্ধ খাদ্য ও পানি খেতে হবে।

রাস্তাঘাটে শরবত বা পানিজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন। মনে রাখবেন, ফুচকার পানিতে ফুচকাওয়ালা মামার ঘাম যতোই স্বাদ আনুক না কেন, সেটি নিজের ও সন্তানের জন্য একদম স্বাস্থ্যকর নয়।

অ্যালোকোহল পান থেকে বিরত থাকুন। এটি Hepatotoxic অর্থাৎ লিভারের জন্য বিষাক্ত।

এছাড়াও যেকোন ধরণের নেশাদ্রব্য গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকুন।

২) হেপাটাইটিস- বি, সি এবং ডি দূষিত রক্ত, সিরিঞ্জ এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমে ছড়ায়।

এখন ডেংগির জন্য রক্তের প্রয়োজন হচ্ছে হরদমই। কারও ডেঙ্গি আক্রান্ত স্বজনকে রক্ত দেবার প্রয়োজন হলে অবশ্যই স্ক্রিনিং করে নেয়া হচ্ছে কিনা খোঁজ নিন।

ডিসপোজেবল সিরিঞ্জ ব্যবহার করাটা খুবই জরুরী।

এমনকি নাক-কান ফোঁড়ানোর সময়ে পার্লারের যন্ত্রও স্ট্রেইলাইজড কিনা জিজ্ঞেস করে নেবেন।

যারা সেলুনে সেভ করেন, তাদের খেয়াল রাখতে হবে যেন আগে ব্যবহার করা ব্লেড বা ক্ষুর আবার ব্যবহার করা না হয়।

নিরাপদ যৌনমিলন যেমন জরুরি তেমনি জরুরি সঙ্গীর একে অন্যের প্রতি বিশ্বস্ততা বজায় রাখা যাতে রোগ ছড়িয়ে না যায়।

৩) হেপাটাইটিস এ এবং বি এর ভ্যাকসিন পাওয়া যায়। অবশ্যই এই ভ্যাকসিনগুলো নিন। সন্তানকেও অবশ্যই এই টিকা দিন।

এখন জেনে নেই সতর্কতা অবলম্বনের পরেও যদি কারও জন্ডিস হয়, সেক্ষেত্রে কী করবেন।

 

জন্ডিস হলে করণীয় 
১) কোনো কবিরাজি ওষুধ, ব্যথার ওষুধ এবং এসপিরিন খাবেন না
২) প্রচুর পরিমাণ বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে
৩) প্রচুর গ্লুকোজ খেতে হবে
৪) শুয়ে থেকে পূর্ণ বিশ্রাম নিতে হবে
৫) সদ্য জম্নানো শিশুর নিওনেটাল জন্ডিস হলে অবশ্যই রোদে নেবেন দিনে ১৫ মিনিটের জন্য
৬) সবচেয়ে বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সব পরীক্ষা করাবেন। কোন ধরণের জন্ডিস সেটা নিশ্চিত হয়ে সেই অনুযায়ী চিকিৎসা নিশ্চিত করবেন।


সর্বশেষ  
জনপ্রিয়  
ফেইসবুক পাতা